সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

পোস্টগুলি

মাছের রোগ বালাই ও প্রতিকার---- জীবিত প্রাণি রোগাক্রান্ত হবে, এটাই প্রকৃতিক নিয়ম এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মাছের ক্ষেত্রেও এর ব্যতিক্রম হয় না। তবে নানা কারণে উন্মুক্ত জলাশয়ের চেয়ে বদ্ধ জলাশয়ে চাষ করা মাছে রোগাক্রমণ অনেক সময় কম বেশি হয়ে থাকে। পুকুর বা দীঘির মাছকে প্রায়ই নানান রোগের কবলে পড়তে দেখা যায়।আবদ্ধ পদ্ধতিতে চাষকৃত মাছ সচরাচর যেসব রোগে আক্রান্ত হতে পারে, এ ধরনের কয়েকটি সম্ভাব্য রোগ ও তার প্রতিকার সম্পর্কে সংক্ষিপ্তভাবে আলোকপাত করা হলো। রোগের নাম/আক্রান্ত মাছের প্রজাতি/রোগের লক্ষন ও কারণ/চিকিৎসা ও ঔষধ প্রয়োগ/প্রতিষেধক/প্রতিকারে  নিম্মোক্ত পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে ---- ১) রোগের নাম - ছত্রাক রোগ (সেপ্রোল্গেনিয়াসিস): আক্রান্ত মাছের প্রজাতি - রুই জাতীয় ও অন্যান্য চাষ যোগ্য মাছ। রোগের লক্ষন ও কারণ: আক্রান্ত মাছের ক্ষতস্থানে তুলার ন্যায় ছত্রাক দেখা দেয় এবং পানির স্রোত যখন স্থির হয়ে যায় কিংবা বদ্ধ জলায় অথবা হ্যাচারী ট্যাংকে যেখানে অনিষিক্ত ডিমের ব্যাপক সমাগম ঘটে, উহাতে ছত্রাক রোগ দ্রুত বিস্তৃতি লাভ করে। এমনি ধরনের প্রাকৃতিক জলাশয়ে প্রায় শতকরা ৯৮ ভাগ মাছের ডিম ক...
যুগ বদলেছে, সততা - বিশ্বাস দুর্বল হয়েছে , স্বার্থপরতা-প্রতারণা আজ শক্তিশালী:-- একটা সময় ছিলো, শুধু মুখের কথায় লেনদেন চলতো । একজন আরেকজনকে অন্ধবিশ্বাস করতো । এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সে বিশ্বাসের মর্যাদা সমুন্নত থাকতো । মানুষের মাঝে অভাব অনটন থাকলেও ভালবাসার অভাব ছিলোনা । ছিলো আত্নীয়তা, সামাজিক বন্ধন । কিন্তু আজকাল ভাত -কাপড়ের অভাব নাই বললেই চলে । আছে মূল্যবোধ, সততা, নীতি, আত্মমর্যাদার অভাব । আজ প্রখর হয়েছে লোভ --ক্ষমতার লোভ , অপরিসীম বিত্ত বৈভবের লোভ , নাম খ্যাতির লোভ । যেটা পুড়িয়ে ছাড়খার করে দিচ্ছে বিশ্ব মানবতাকে । লোভ থাকা দোষের কিছু নয় । সকল মানুষের মাঝেই সেটা বিদ্যমান । চাষা আলামিন জুয়েলের মাঝেও রয়েছে । আছে স্বচ্ছলতার লোভ ,আছে সফলতা অর্জনের লোভ , আছে ভালবাসা পাওয়ার লোভ , আছে পরিপূর্ণ হবার লোভ । কিন্তু সে লোভ যদি অন্য কোন মানুষের ক্ষতির কারণ হয়ে দাড়ায় , সে লোভ যদি মানবতা বিবর্জিত হয়, তখনই দোষের । পৃথিবীর সৃষ্টিলগ্ন থেকেই ইবলিশ শয়তানের আবির্ভাব।তাই তার অনুসারী হয়ে আমার মত কুমতলববাজ, ধান্দাবাজ, প্রতারকের দল নিত্য নতুন ফন্দি আটবে সেটাই সাভাবিক । কিন্তু আপনি কেন অতি লোভে পরে সে ...
শুরু হচ্ছে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদন: রপ্তানিমুখী কাঁকড়া চাষ খাতের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মিটানোর জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ কাঁকড়ার পোনা সুন্দরবন হতে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়। সুন্দরবন হতে বিপুল পরিমাণে কাঁকড়ার পোনা সংগ্রহ করার ফলে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য নষ্ট হয়ে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এরই প্রেক্ষিতে কাঁকড়ার হ্যাচারি স্থাপনের মাধ্যমে দেশে কাঁকড়ার পোনা উৎপাদনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশে স্থাপিত প্রথম কাঁকড়ার হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদন শুরু হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনীস্থ কলবাড়ীতে স্থাপিত নতুন এ কাঁকড়ার হ্যাচারিতে উৎপাদিত কাঁকড়ার পোনা নার্সারি পুকুরে অবমুক্ত করা হচ্ছে। দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে বিকাশমান কাঁকড়া চাষ দ্রুত উন্নয়নের লক্ষ্যে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর প্রমোটিং এগ্রিকালচার কর্মাসিয়ালাইজেশন অ্যান্ড এন্টারপ্রাইজেস (পিএসিই) প্রকল্পের আর্থিক সহায়তায় পিকেএসএফ-এর সহযোগী সংস্থা নওয়াবেঁকী গণমুখী ফাউন্ডেশন (এনজিএফ) সাতক্ষীরার শ্যামনগরে কাঁকড়ার হ্যাচারিটি স্থাপন করেছে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে এর আগে কাঁকড়ার হ্যাচারিতে পোনা উৎপাদনের বিভিন্ন প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হলেও এবারই ...
ভেড়া পালন :(CAJ পোস্ট ) পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই ভেড়া পালন জনপ্রিয়। মাংস, উল ও দুধ উৎপাদনের জন্য ভেড়া পালন হয়ে থাকে। বড় বড় বাণিজ্যিক খামারের মাধ্যমে ভেড়া পালন করা হয়, আবার পারিবারিক পর্যায়েও পালন করা হয়। বিভিন্ন দেশে ভেড়ার মাংস বেশ জনপ্রিয়। ভেড়া পালনের বিশেষ দিকগুলো তুলে ধরা হলো--(CAJ) * ভেড়া শান্ত ও ছোট প্রাণী; ফলে এদের খাদ্য ও আবাসনজনিত বিনিয়োগ এবং ঝুঁকি কম * ভেড়া মাংস, পশম, চামড়া ও জৈবসার উৎপাদন করে * ভেড়া গরু-ছাগলের সঙ্গে মিশ্রভাবে পালন করা যায়। * একটি ভেড়া বছরে সাধারণত দু’বার বাচ্চা দেয় এবং প্রতিবার গড়ে দুটি করে বাচ্চা দেয়। ভেড়া নির্বাচন : পালনের জন্য ৭-১২ মাস বয়সী সুস্থ ভেড়া নির্বাচন করা উচিত। শারীরিক গঠনের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে সাধারণত দু’ প্রকার ভেড়া দেখা য়ায়। একটি জাতের কান খুব ছোট এবং লেজ খাটো।অন্যটির কান মোটামুটি বড় এবং লেজ মধ্যম আকৃতির। ভেড়ার জাত: (CAJ) সারা বিশ্বে ৯০০ এর অধিক জাতের ভেড়া রয়েছে । বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে ভেড়ার জাতকে বিভিন্নভাবে ভাগ করা হয়। যেমন- * মাংস ও বাচ্চা উৎপাদনকারী জাত, আর্কট (কানাডা)। * মাংস ও উল উৎপাদন...
কলা চাষ পদ্ধতি------- চাষাবাদের ক্ষেত্রে কৃষকরা আবহমানকাল থেকে অর্থকরী ফসল হিসেবে শুধু ধানকেই দেখে আসছেন। ধানের বহুমুখী ব্যবহার ও চাহিদার জন্যই এর প্রভাব কৃষক মহলে বেশি। এদিকে জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি এলাকার দোআঁশ ও বেলে দোআঁশ মাটি ধান চাষের জন্য উপযোগীও বটে। সম্প্রতি কচুরলতির প্রতিও মানুষের আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন। গত ১০/১২ বছর থেকে কচুরলতির পাশাপাশি কৃষকদের কলার প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। প্রাচীন ধ্যান-ধারণা ক্রমেই পাল্টাচ্ছে আর এই পরিবর্তনের ফলস্বরূপ লাভজনক ফসল হিসেবে তারা কলাকে চিহ্নিত করেছেন। কারণ হিসেবে জানা গেছে, ধান, পাট ও আখসহ প্রচলিত অন্যান্য ফসলের তুলনাই কলাচাষে শ্রম ব্যয় হয় কম, বিক্রি করতেও ঝামেলা নেই (বাগান থেকেই বিক্রি হয়)। অন্যদিকে কলার বাজার দরে সহজে ধস নামে না। পুষ্টিকর ফল হিসেবেও কলার চাহিদা বেশি। সর্বোপরি একবার কলার চারা রোপণ করলে ২/৩ মৌসুম চলে যায়। কলার গাছ বড় হওয়ার কারণে গরু-ছাগলের হাত থেকে রক্ষার জন্য বেড়া (ফেন্সিং) দিতে হয় না। বন্যাসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত না হলে ১ একর জমি থেকে ধান পাওয়া সম্ভব (ইরি-আমন মিলিয়ে) ৮০/৯০ মণ। এর আনুমানিক মূল্য ৪৫/...

CAJ-গাভী পালন পদ্ধতি :

CAJ-গাভী পালন পদ্ধতি : উতপাদনশীল গাভী নির্বাচন : বাংলাদেশের কিছু কিছু অঞ্চলে বিশেষ উৎপাদনশীল গাভী পরিলক্ষিত হয়। যেমনঃ চট্টগ্রামের লাল গরু বা রেড চিটাগাং , পাবনা জেলার গরু ও ফরিদপুর জেলার গরু। তবে উতপাদনশীল গাভী নির্বাচনে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরী, সে বিষয়ে নিচে আলোচনা করা হলো : মাথাঃ মাথা হালকা ও ছোট আকারের হবে। কপাল প্রশস্ত, চোখ উজ্জ্বল হবে। অধিক খাদ্য গ্রহণে আগ্রহী হবে। দৈহিক আকারঃ দেহের সামনের দিক হালকা, পিছনের দিক ভারী ও সুগঠিত হবে, অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সামঞ্জস্যপূর্ণ ও সুসংগঠিত হবে। দৈহিক আকার আকর্ষণীয় হবে। শরীরের গঠণ ঢিলা হবে। পাঁজরঃ পাঁজরের হাঁড় সুস্পষ্ট অনুভব করা যাবে। হাঁড়ের গঠন সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। চামড়াঃ চামড়া পাতলা হবে। চামড়ার নীচে চর্বির বাহুল্য থাকবে না। লোম মসৃন ও চকচকে হবে। ওলানঃ গাভীর ক্ষেত্রে ওলান বড় ও সুগঠিত হবে ও দেহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। পিছনের দুই পায়ের মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত হবে। বাটগুলি একই আকারের হবে। ৪টি বাট সমান দূরত্বে ও সমান্তরাল হবে। দুগ্ধশিরাঃ দুগ্ধ শিরা মোটা ও স্পষ্ট হবে। তলপেটে নাভীর পাশ দিয়ে দুগ্ধশিরা আঁকাবাঁ...
সালমোনেলোসিস/ফাউল টাইফয়েড ও টিকা: (CAJ-SALMONELLOSS/FOWL TYPHID & VACCINE) সালমোনেলোসিস/ফাউল টাইফয়েড গৃহ-পালিত মোরগ-মুরগির একটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ। এ রোগ তীব্র ও দীর্ঘ মেয়াদী (Chronic) প্রকৃতির হয়ে থাকে। তীব্র প্রকৃতির রাগে মোরগ-মুরগির উচ্চ তাপমাত্রা ও হঠাৎ মৃত্যু হয়। দীর্ঘ মেয়াদী (Chronic) মোরগ-মুরগির খাদ্য গ্রহণে অনিহা, ঝুটি বিবর্ণ হওয়াসহ সবুজ বা হলুদ বর্ণের ডায়রিয়া দেখা দেয়। যা মলদ্বারের আশপাশের পালকে লেগে থাকে। এ রোগে আক্রান্ত পাখির ওজন ও ডিম উৎপাদন দ্রুত কমে যায়। বাচ্চা মোরগ-মুরগির মৃত্যুর হার অত্যাধিক হয়। আক্রান্ত মোরগ-মুরগির মলমূত্র দিয়ে, দূষিত খাদ্য ও পানিয় দিয়ে সুস্থ পাখিতে রোগ সংক্রমিত হয়। বাহক মুরগির ডিমের মাধ্যমে বাচ্চাতে এ রোগের সংক্রামণ হয়। মাষ্টার ॥সীড : সালমোনেলা গেলিনেরাম- এর ফিল্ড ষ্ট্রেইন ও 9 R ষ্ট্রেইন। অরিজিন : প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মহাখালী, ঢাকা। ব্যবহার বিধি : ৬ সপ্তাহের উর্ধ্ব বয়সী মোরগ-মুরগিতে প্রথম ডোজ দেওয়া হয়। ১ম ডোজের ৩০ দিন পর ২য় ডোজ ও ৬ মাস পর বুষ্টার ডোজ দিতে হয়। গলার চামড়ার নীচে ০.৫ এম এল করে ইনজেকশন দিতে হয়। সরবরাহ : প্রতি...
ফাউল পক্স রোগ ও টিকা: ( CAJ-FOWL POX MALADY & VACCINE ) ফাউল পক্স মোরগ-মুরগির ভাইরাসজনিত একটি রোগ। আক্রান্ত মোরগ-মুরগির ঝুটি, কানের লতি, পা, পায়ের আঙ্গুল এবং পায়ুর চার পার্শ্বে বসন্তের ফুসকুড়ি দেখা যায়। চোখের চারপাশে এই ক্ষত সৃষ্টির ফলে চোখ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এই রোগে বাচ্চা মোরগ-মুরগির বয়স্ক মোরগ-মুরগির অপেক্ষা অধিক সংবেদনশীল। মাষ্টার সীডঃ বোডেট (Buddett)  ষ্ট্রেইন। অরিজিনঃ মালয়েশিয়া। ব্যবহার বিধিঃ প্রথমে টিকার ভায়ালে ৩ এম এল পরিস্রুত পানি নিয়ে ভাল করে মিশাতে হবে। এই টিকা প্রয়োগের জন্য বিশেষ ধরনের সুঁজ (Biforked Pricking Needle) বা বিকল্প হিসাবে ইনজেকশনের সুঁচের অর্ধাংশ ডুবিয়ে ২১ দিনের বা তদুর্ধ বয়সী মোরগ-মুরগির পাখার ত্রিকোণাকৃতি বিহীন চামড়ায় একাধিকবার খুঁচিয়ে প্রয়োগ করতে হয়। এই টিকা আজীবনের জন্য রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি করে। মা থেকে মাতৃএন্টিবডি বাচ্চায় সংঞ্চয়িত হয়। এই টিকা একবার (বুষ্টার ডোজসহ) প্রয়োগই যথেষ্ট। পুনরায় টিকা প্রয়োগের প্রয়োজন পড়ে না। সরবরাহ : প্রতি ভায়ালে ২০০ মাত্রা টিকা। মূল্য : প্রতি ভায়াল ৪০ টাকা। প্রাপ্তিস্থান : উপজেলা ও জেলা প্রা...
মুরগির রাণীক্ষেত রোগ ও  টিকা: [ CAJ--RANIKHET DISEASE & VACCINE (RDV) ] মোরগ-মুরগির সংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে রাণীক্ষেত রোগ বা নিউক্যাসেল ডিজিজ (Newcastle Disease) একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। এ রোগের জীবাণু আক্রান্ত মোরগ-মুরগির শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রের আক্রান্ত করে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ প্রকাশ করে। পরিপাকতন্ত্র আক্রান্তের ফলে মোরগ-মুরগি সাদা চুনের ন্যায় অথবা সবুজ বর্ণের পাতলা মল ত্যাগ করে এবং স্নায়ুতন্ত্র আক্রমনের ফলে মোরগ-মুরগির ঘাড় বাঁকা হয়ে যায়। এ রোগের সুপ্তিকাল ৩-৬ দিন। মাষ্টার সীডঃ মুক্তেসর এম (M) ষ্ট্রেইন । অরিজিনঃ Food and Agricultural Organization (FAO) . ব্যবহার বিধিঃ প্রতি ভায়ালে ০.৩ এম এল টিকা হিমশুস্ক অবস্থায় থাকে। প্রতি ভায়ালে ১০০ মাত্রা টিকা থাকে। টিকার মিশ্রণ তৈরীর জন্য জীবাণুমুক্ত ও পরিস্কার ঢাকনাযুক্ত পাত্র, সিরিঞ্জ নিডিল পরিস্রুত পানি প্রয়োজন। প্রথমে পাত্রে ১০০ এম এল পরিস্রুত পানি মেপে নিতে হবে। তারপর সিরিঞ্জের সাহায্যে ১০০ এম এল থেকে কিছু পরিস্রুত পানি ভায়ালে ঢুকিয়ে নিতে হবে। টিকা পুরোপুরি গুলানোর জন্য শিশিটি আস্তে ...
বাচচা মুরগির রাণীক্ষেত রোগ ও টিকা: [ CAJ--BABY CHICK RANIKHET DISEASE & VACCINE (BCRDV) ] মোরগ-মুরগির সংক্রামক রোগগুলোর মধ্যে রাণীক্ষেত রোগ বা নিউক্যাসেল ডিজিজ (Newcastle Disease) একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত সংক্রামক ব্যাধি। এ রোগের জীবাণু আক্রান্ত বাচ্চা মোরগ-মুরগির শ্বাসতন্ত্র, পরিপাকতন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্র আক্রান্ত করে বৈশিষ্ট্যপূর্ণ লক্ষণ প্রকাশ করে। পরিপাকতন্ত্র আক্রান্তের ফলে মোরগ-মুরগি সাদা চুনের ন্যায় অথবা সবুজ বর্ণের পাতলা মল ত্যাগ করে। এ রোগের সুপ্তিকাল ৩ থেকে ৬ দিন। মাষ্টার সীডঃ লেন্টোজেনিক এফ (F) ষ্ট্রেইন। অরিজিনঃ Food and Agricultural Organization (FAO) ব্যবহার বিধিঃ প্রতি ভায়ালে ০.৬ এম এল টিকা হিমশুস্ক অবস্থায় থাকে। এ টিকা প্রদানের জন্য ৬ এম এল পরিষ্কার পানি, জীবাণুমুক্ত পরিস্কার মিশ্রণ পাত্র, সিরিঞ্জ নিডিল ও আইড্রপার প্রয়োজন হয়। সিরিঞ্জের সাহায্যে ৬ এম এল পরিস্রুত পানির কিছুটা অংশ নিয়ে টিকা ভায়ালে প্রবেশ করাতে হবে। টিকা গলানোর জন্য ভায়াল ধীরে ধীরে নাড়তে হবে এবং পুরো মিশ্রণটি সিরিঞ্জে টেনে নিতে হবে। এরপর পরিস্কার জীবাণুমুক্ত আই ড্রপারের সাহায্যে মিশ্রিত টিকা নি...
মারেক্স রোগ ও টিকা: ( CAJ-MAREK’S DISEASE & VACCINE ) মারেক্স ডিজিজ (Marek’s Disease) মোরগ-মুরগির একটি লিমফো প্রোলিফারেটিভ (Lympho-Proliferative) রোগ। পেরিফেরাল স্নায়ু, যৌন গ্রন্থি, আইরিস, বিভিন্ন অঙ্গসমূহ, পেশী ও ত্বকে এককেন্দ্রীক কোষের অনুপ্রবেশ (Infiltration) এ রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য। পেরিফেরাল স্নায়ুতে এককেন্দ্রীক কোষের অনুপ্রবেশের কারণে স্নায়ু স্ফীত হয়ে পক্ষাঘাত সৃষ্টি করে। তাই এ রোগকে ফাউল প্যারালাইসিস বলা হয়। মাষ্টার সীডঃ এইচ ভি টি এফ সি-১২৬ (HVT FC-126) (সিরো টাইপ-৩)। অরিজিনঃ ইংল্যান্ড ব্যবহার বিধিঃ ২০০ এম এল ডাইল্যুন্টের সাথে গুলানোর পর ০.২ এম এল করে চামড়ার নিচে প্রয়োগ করতে হয়। ১ দিন বয়সের মুরগীর বাচ্চাকে এই টিকা প্রদান করতে হয়। সরবরাহঃ প্রতি ভায়ালে ১০০০ মাত্রা টিকা + ২০০ এম এল ডাইল্যুয়েন্ট। সরকারি মূল্যঃ প্রতি ভায়াল ৩৫০ টাকা। প্রাপ্তিস্থান : উপজেলা ও জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় । তথ্যসূত্র : বিএলআরআই। #সকল খামারি ভাইদের জন্য শুভকামনা ---চাষা আলামিন জুয়েল ॥
পিপিআর রোগ ও টিকা: (CAJ---PPR MALADY & VACCINE) পিপিআর (Peste des Petits Ruminants) ছাগলের একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। এ রোগ অত্যন্ত ছেঁয়াচে এবং প্রাদুর্ভাব এলাকায় শতকরা প্রায় ১০০ ভাগ ছাগল এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে ভেড়ার চেয়ে ছাগল এ রোগে বেশি সংবেদনশীল। এ রোগে আক্রান্ত ছাগলের মৃত্যুর হার শতকরা ৫০-৮০ ভাগ। বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। সব বয়সের ছাগল এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে, এক বছর পর্যন্ত বয়সের ছাগল এ রোগে বেশি মারা যায়। উচ্চ তাপমাত্রা, পাতলা পায়খান (ডায়রিয়া), পানিশূন্যতা, শ্বাসকষ্ট (সর্দ্দি) মুখে ঘা এ রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য। পোষ্টমর্টেম পর্যবেক্ষণে ক্ষুদ্রান্ত্রে জেব্রা ষ্ট্রাইপিং (Zebra Striping) দেখা যায়। মাষ্টার সীডঃ লোকাল (শহীদ টিটো) ষ্ট্রেইন। অরিজিনঃ বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, সাভার, ঢাকা। ব্যবহার বিধিঃ প্রতি ভায়ালে টিকা ১০০ এমএল ডাইল্যুয়েন্টের সাথে গুলানোর পর প্রতি পশুকে ১ এম এল করে গলার চামড়ার নীচে প্রয়োগ করতে হয়। ৪ মাস বয়সের পশুকে এ টিকা দেওয়া হয়, তবে ২ মাস বয়সের পশুকেও এ টিকা দেওয়া যায়। তবে সেক্ষেত্রে ৬ মাস বয়সে...
ক্ষুরা রোগ ও টিকা: [CAJ-FOOT & MOUTH DISEASE (FMD) VACCINE] ক্ষুরা রোগ একটি ভাইরাসজনিত মারাত্মক সংক্রামক রোগ। এ রোগকে গ্রামে ক্ষুরাচল বা বাতনা বলে থাকে। গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি দ্বিক্ষুর বিশিষ্ট প্রাণী এ রোগে আক্রান্ত হয়। জ্বর, মুখে ও পায়ে ফোসকাসহ ঘা এ রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এ রোগে আক্রান্ত বয়স্ক পশুকে মৃত্যুর হার কম হলেও মহামারী এলাকায় আক্রান্ত বাছুরের মৃত্যুর হার অত্যাধিক। মাস্টার সীড : (ক) বাইভ্যালেন্ট টিকা: A এবং O সিরোটাইপ। অরিজিন: প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ), মহাখালী, ঢাকা। (খ) ট্রাইভ্যালেন্ট টিকা: A, O এবং Asia-1 সিরোটাইপ। অরিজিন: প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ), কুমিল্লা। ব্যবহার বিধি: প্রয়োজন পদ্ধতি ও মাত্রা : টিকার নাম-গবাদিপশু-ছাগল/ভেড়া-প্রয়োগের স্থান বাইভ্যালেন্ট-৬ এম এল-২ এম এল-চামড়ার নীচে। ট্রাইভ্যালেন্ট-৬ এম এল-২ এম এল-চামড়ার নীচে। এ টিকা ৪ মাস পর পর প্রয়োগ করতে হয়। তবে প্রথম ডোজের ২১ দিন পর বুষ্টার ডোজ প্রয়োগ করলে প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। সতর্কতাঃ এ টিকার শূন্য ডিগ্র...
জলাতঙ্ক রোগ ও টিকা: (CAJ---RABIES MALADY & VACCINE) জলাতঙ্ক বা র‌্যাবিস (Rabies) মানুষসহ সকল উষ্ণ রক্ত বিশিষ্ট প্রাণীর স্নায়ুতন্ত্রের একটি মারাত্মক রোগ। এই রোগে গলবিলের পেশী অবশতার কারণে জল গ্রহণে অসুবিধাজনিত ভীতির সৃষ্টি হয় বলে রোগটিকে বাংলায় জলাতঙ্ক রোগ বলে। আক্রান্ত প্রাণীর উষ্মত্ততা, আক্রামণাত্মক ভাব, উর্দ্ধগতি, অবশতা, ফ্যারিঞ্জিয়াল প্যারালাইসিসি ও মুখ দিয়ে লালা ঝরা এ রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য। মাষ্টার সীড : ফ্লারি ষ্ট্রেইন। অরিজিন: World Health Organization (WHO) ব্যবহার বিধিঃ হেপ (HEP) টিকা শুধুমাত্র Pre-exposure টিকা হিসাবে ব্যবহার করা হয়। যে সমস্ত প্রাণীকে জলাতঙ্ক আক্রান্ত পশু কামড়ায় নাই বা যে সমস্ত প্রাণী জলাতঙ্কে আক্রান্ত প্রাণীর লালা বা ভাইরাস সংক্রমিত অন্য কোন বস্ত্তর (Virus material) সংস্পর্শে আসে নাই সে সমস্ত প্রাণী এ রোগে যাতে আক্রান্ত না হয় সে জন্য এ টিকা দেওয়া হয়। যে কোনভাবে (কামড়ালে, আচড়ালে, ক্ষতস্থানে লালা বা অন্য কোন ভাইরাস মিশ্রিত বস্ত্ত লাগা) প্রাণীদেহে র‌্যাবিস ভাইরাস প্রবেশ করলে ঐ প্রাণীকে এ টিকা দেওয়া যাবে না। এসব ক্ষেত্রে Post Exposure Vaccine ব...
গলাফুলা রোগ ও টিকা: (CAJ-HAEMORRHAGIC SEPTICAEMIA (HS) VACCINE) গলাফুলা একটি তীব্র প্রকৃতির পাশ্চুরেলোসিস ধরনের রোগ। যাহা গরু এবং মহিষকে আক্রান্ত করে। এটি একটি ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগ যাহা Pasteurella multocida দিয়ে হয়। এ রোগে মৃত্যুর হার খুবই বেশি। বর্ষাকালে গলাফুলা রোগ বেশি দেখা যায়। পশুর শরীরে স্বাভাবিক অবস্থায় এ রোগের জীবাণু বিদ্যমান থাকে। কোন কারণে যদি পশু পীড়নের সম্মুখীন হয় যেমন- ঠান্ডা, অধিক গরম, ভ্রমণজনিত দুর্বলতা তখনই এ রোগ বেশি দেখা দেয়। সেপ্টিসেমিয়া, উচ্চ তাপমাত্রা, গ্রীবার সম্মুখভাগে এডিমা স্ফীতি ও উচ্চ মৃত্যুর হার এ রোগের প্রধান বৈশিষ্ট্য। মাষ্টার সীড :  লোকাল ষ্ট্রেইন। অরিজিন: প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মহাখালী, ঢাকা। ব্যবহার বিধি: অয়েল এ্যাডজুভেন্ট টিকা সাধারণত: প্রাপ্ত বয়স্ক (২য় বৎসরের উপরে) গবাদিপশুকে ২ এমএল মাত্রায় ও ছাগল ভেড়ায় ১ এম এল মাত্রায় প্রয়োগ করতে হয়। এনজুটিক এলাকায় ৬ মাস বা তদুর্ধ বয়সী বাছুরে প্রাপ্ত বয়স্ক গরুর অর্ধেক মাত্রায় টিকা দিতে হয়। এ্যালাম অধঃপতিত টিকা গবাদিপশুতে ৫ এম এল মাত্রায় ও ছাগল ভেড়ায় ২ এম এল মাত্রায় প্রয়োগ করতে হয়। অয়েল এ্যা...