সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

তেল ছাড়া খাসির গোস্ত ভুনা রেসিপি ---


আজকাল আমরা অনেকেই স্বাস্থ্য সচেতন। নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের সুস্থ্য রাখতে কতো কিছুই করছি আমরা। তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে চলছি অনেকে। আবার অনেকের ধারণা, তেল ছাড়া রান্না হয়না। হলেও রান্না সুস্বাদু হবেনা। আসলে কথাটা সম্পূর্ণ ভুল। আজকে আমি আপনাদের তেল ছাড়া মজাদার খাসির গোস্ত রান্নার রেসিপি জানাবো। 


উপকরণ : 

খাসির মাংস (দেড় কেজি ), লবণ পরিমাণ মতো, ঘি ২ চা চামচ, পেঁয়াজবাটা আধ কাপ,আদাবাটা ২ টেবিল চামচ, এলাচ ৪টি, রসুনবাটা ১ চা চামচ, দারচিনি ৪ টুকরো , ধনেগুড়া ১ চা চামচ, তেজপাতা ২টি, পেস্তাবাটা ১ টেবিল চামচ, পোস্তদানা বাটা ১ টেবিল চামচ, পেঁয়াজকুঁচি ২ কাপ, দুধ ১ কাপ, জায়ফল জয়ত্রির গুরো আধ চা চামচ, কাঁচা লংকা ৮ টি, গরম মসলার গুরো ১ চা চামচ, জিরা বাটা ১ চা চামচ,গোলাপজল ১ চা চামচ, টকদই ১ কাপ, সাদা গোলমরিচের গুরো ১ চা চামচ, হলুদ গুড়া দের চা চামচ, মরিচ গুড়া ২ চা চামচ ( ঝাল বেশি খেলে প্রয়োজন মতো ), পাকা টমেটো ৪ টা ( স্লাইস করা )।


প্রণালী : 

মাংস, সাদা গোলমরিচের গুরো , জায়ফল জয়ত্রির গুরো , টকদই দিয়ে ভালোভাবে মাখিয়ে ১ ঘণ্টা রেখে দিন। 


এরপর প্রথমে কুকিং প্যানে ঘি গরম দিয়ে এর মধ্যে  পেঁয়াজকুচি দিয়ে দিন। অল্প আঁচে পেঁয়াজ ভাজতে থাকুন। পেঁয়াজের রং বাদামি না হওয়া পর্যন্ত নাড়তে থাকুন। প্রয়োজনে ১ চামচ পানি দিন। পেঁয়াজ বাদামি রং হয়ে গেলে আদা বাটা, জিরা বাটা ও রসুন বাটা দিয়ে একসাথে ঘন ঘন নাড়ুন। আবারো প্রয়োজনে ২ চামচ পানি দিয়ে মশলা ভাজতে থাকুন। কাচা মশলার গন্ধ দূর হলে এর মধ্যে মরিচগুঁড়া, হলুদ, ধনিয়াগুঁড়া, গরম মশলাগুঁড়া, টমেটো এবং পরিমাণমতো লবণ দিন। অল্প অল্প পানি দিয়ে মশলা ভালো ভাবে কষিয়ে নিন।


পানি শুকিয়ে মসলা থেকে সুগন্ধ বেরিয়ে এলে এতে খাসির মাংস দিয়ে দিন। চুলার আঁচ এ সময় মাঝারি রাখুন।


মাংস ঢেকে রান্না করুন। মাঝে মাঝে নাড়তে থাকুন। মাংস থেকে পানি বের হবে এবং এই পানিতেই মাংস মোটামুটি সিদ্ধ হয়ে যাবে। পানি না শুকানো পর্যন্ত এভাবে কষাতে থাকুন। পুরোপুরি পানি শুকিয়ে গেলে আবার প্রয়োজন মতো পানি দিয়ে ঢেকে দিন।


এরপর মাঝে মাঝে নেড়ে দিন। মাংস পুরোপুরি সিদ্ধ হয়ে এলে এবং সামান্য রসালো অবস্থায় এলে চুলা বন্ধ করে দিন।


এরপর মজা করে খেতে পারেন আপনার ইচ্ছে অনুযায়ী ভাত, পোলাউ অথবা রুটি দিয়ে। আশা করি আপনার রান্নাটি হবে চমৎকার স্বাদযুক্ত এবং সকলের প্রশংসনীয়।


আমার রেসিপি ভালো লাগলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। সুস্থ্য থাকুন, ভালো থাকুন সকলে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সবজি ও ফল চাষের বারো মাসের পঞ্জিকা:,

সবজি ও ফল চাষের বারো মাসের পঞ্জিকা- - আমাদের দেশে সাধারণত ঋতু বা মৌসুম ছ’টি। আর কৃষির মৌসুম তিনটি- খরিফ-১, খরিফ-২ ও রবি। উৎপাদনের ওপর ভিত্তি করে যদিও কৃষি মৌসুমকে তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে, কিন্তু ভৌগোলিক অবস্থান, আবহাওয়া, জলবায়ু এবং আমাদের প্রয়োজনের তাগিদে প্রতি মাসের প্রতিটি দিনই কিছু না কিছু কৃষি কাজ করতে হয়। চাষিরা নিজস্ব চিন্তা ধারা, চাহিদা ও আর্থিক দিক বিবেচনা করে নিজের মত প্রতিদিনের কাজ গুলোকে সাজিয়ে নিবেন ও বাস্তবে রূপ দেবেন।  ক্লিক করুন: বেগুন চাষ পদ্ধতি : https://smartfarmeralaminjuel.blogspot.com/2020/01/caj.html পশু পাখি ও তাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী ক্রয় : https://smartfarmeralaminjuel.blogspot.com/2020/01/blog-post.html https://smartfarmeralaminjuel.blogspot.com/2020/01/blog-post_22.html বৈশাখ (মধ্য এপ্রিল-মধ্য মে): লালশাক, গিমাকলমি, ডাঁটা, পাতাপেঁয়াজ, পাটশাক, বেগুন, মরিচ, আদা, হলুদ, ঢেঁড়স বীজ বপন এর উত্তম সময় . সঙ্গে গ্রীষ্মকালীন টমেটো চারা রোপণ করতে হবে । মিষ্টিকুমড়া, করলা, ধুন্দুল, ঝিঙা, চিচিংগা, চালকুমড়া, শসার মাচা তৈরি, চারা উৎপাদন করতে হবে . কুমড়া জাতীয় সব...

পরিবারিক খামারে দেশী জাতের মুরগী পালনের লাভজনক উপায় :

পারিবারিক খামারে দেশী জাতের মুরগী পালনের লাভজনক উপায়ঃ--- আমাদের গ্রামীণ জনপদে আগে বেশীরভাগ ঘরে দেশী মুরগী পালন করা হতো। রাত-বিরাতে বাড়ীতে অতিথি এলে এই মুরগী জবাই করে আপ্যায়নের ব্যাবস্থা করা হতো। এমনকি মাঝে মাঝে গভীর রাতেও মুরগীর ডাকে ঘুম ভেঙ্গে যেতো। পরে জানতে পারতাম, মেহমান এসেছে তাই রাতেই মুরগী জবেহ করা হচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে রাতে তো দুরের কথা, দিনের বেলাতে পুরো এলাকা খুঁজে বেড়ালেও দেশী মুরগী খুব বেশী পাওয়া যাবে না। কারন আজ আর গ্রামীণ জনপদের মানুষ দেশী মুরগী আগের মত পালন করে না। কিন্তু এর কারন কি ? কেন মানুষ দেশী জাতের মুরগী পালন করছে না ? কি এর প্রতিবন্ধকতা ? কেন ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশী জাতের মুরগী ? সকলের অভিজ্ঞতালব্ধ মতামত কামনা করছি। এবং আপনাদের আলোচনা ও মতামতের আলোকে পরবর্তীতে দেশী জাতের মুরগী নিয়ে কিছু লেখার আশা করছি------- #উপরোল্লিখিত আহ্বানটি জানাই,আলোচনা/ মতামত গ্রহনের জন্য গত ২৫/০৭/২০১৬ ইং তারিখে। যাতে করে প্রকৃত কারন গুলো খুঁজে বের করে একটি ফলপ্রসূ সমাধান দেয়া যায় এবং দেশী মুরগী সফল ভাবে পালনে আবার সকলকে আগ্রহী করে তোলা যায়। আলহামদুলিল্লাহ্‌, অভুতপূর্ব সারা ...

পোল্ট্রি খামারি বন্ধুদের কিছু প্রশ্ন ও উত্তর :

পোল্ট্রি খামারি বন্ধুদের কিছু প্রশ্ন ও উত্তর : #মুরগীর রানীক্ষেত ঠেকাতে কি করবো ---? CAJউত্তর : প্রতিষেধক : বাচ্চাদের ৫-৭ দিন বয়সে বিসিআরডিবি টিকা চোখে ফোঁটা আকারে দিতে হবে। ২১ দিন বয়সে এবং ৬ মাসের বড় মোরগ-মুরগির জন্য আরডিভি ইঞ্জেকশন দিতে হবে। ১০০ মুরগির জন্য ১ টি ভায়াল যথেষ্ট। চিকিতসা : অক্সি টেট্রাসাইক্লিন গ্রুপের ওষুধ যেমন : রেনামাইসিন, বেক্টিট্যাব, টেট্রাভেট, টেকনোমাইসিন ডিএস যেকোনো একটি ট্যাবলেট ১ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০ টি মুরগিকে ৩ দিন খাওয়ালে ভাল ফল পাওয়া যাবে। #মুরগির ই করাইজা (ঠান্ডা রোগ) হলে কী করবো--? CAJউত্তর : ঘরের ভেতর স্যাঁতস্যাতে ভাব দূর করতে হবে, আলো-বাতাসের পর্যাপ্ত প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে, লিটার সবসময় শুষ্ক রাখতে হবে। আক্রান্ত মুরগিকে আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। ডক্সিসাইক্সিন : ১ গ্রাম ২ থেকে ৩ লিটার পানিতে মিশিয়ে দিতে হবে এবং Ciprotrojin পাউডার: ১ লিটারে পানিতে ১ গ্রাম পরিমাণে ৫ দিন ধরে দিতে হবে। #মুরগির কলেরা হয়েছে (জ্বর থাকে,  প্রথম দিকে সবুজ ও সাদা পাতলা পায়খানা করে), কী করতে হবে--? CAJউত্তর: প্রথমত আক্রান্ত মুরগিকে দ্রুত আলাদা করে ...